সোমবার, ২৯ Jun ২০২৬, ০৪:০৮ অপরাহ্ন
জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আলমগীর নামে একজনকে জীবন্ত পুঁতে রেখে হত্যার পরিকল্পনাকারী আশরাফ আলী র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। হত্যার এক বছর পর নিহতের কঙ্কাল উদ্ধার হয়। কঙ্কালের ফরেনসিক টেস্টের পর নিহতের পরিচয় শনাক্ত হয়। গ্রেপ্তার আসামি আশরাফ আলী হত্যার অন্যতম মূল পরিকল্পনা ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এ নিয়ে চার আসামি গ্রেপ্তার হলেন। এর আগে তিনজন পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
গত ৬ আগস্ট রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের সূত্র ধরে গ্রেপ্তার করা হয় আশরাফ আলীকে (৫৩)। তিনি লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ থানার রামদেব হাজীপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুলের ছেলে।
র্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী থানাধীন এলাকায় আলমগীরের মায়ের জমি জবরদখল করে ভোগ করছিলেন তারই সৎ ভাই খেলান উদ্দিন ও আব্দুস সাত্তার। এ নিয়ে আলমগীরের সঙ্গে সৎ ভাইদের মনোমালিন্য হয়। ঝগড়া বিবাদ ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। নানাভাবে জমি উদ্ধারের চেষ্টা করায় সৎ ভাইরা আলমগীরের ওপর প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হন। সৎ ভাই আলমগীরকে হত্যার প্রাথমিক পরিকল্পনা করেন খেলান উদ্দিন ও আব্দুস সাত্তার।
র্যাব কর্মকর্তা জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী গত বছরের ১৩ আগস্ট আলমগীরকে জমির বিষয়ে আপসের কথা বলে ডেকে নিয়ে যান দুই সৎ ভাই খেলান ও আব্দুস সাত্তার এবং আব্দুস সাত্তারের ভায়রা পাবনার রাশেদুল ইসলাম ওরফে ড্রাইভার রাশেদ।
আলোচনার জন্য তারা আলমগীরকে নিয়ে যান লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার পশ্চিম রামদেব গ্রামে। সেখানে আগাম পরিকল্পনা অনুযায়ী উপস্থিত ছিলেন হত্যার আরেক পরিকল্পনাকারী একই গ্রামের আশরাফ আলী ও তার সহযোগী সেকেন্দার আলী। রামদেব গ্রামে নেওয়ার পর আলমগীরকে আশরাফ আলী ও সেকেন্দার আলীর কাছে নিয়ে যান তারা। সেখানে আলাপ-আলোচনার একপর্যায়ে আলমগীরকে কোল্ডড্রিংকসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাইয়ে দেওয়া হয়। আলমগীর অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাকে অন্যদের সহায়তায় আশরাফ আলী ও সেকেন্দার আলী বাড়ির পেছনে একটি বাঁশঝাড়ের ভেতরে নিয়ে যান। বাঁশঝাড়ের ভেতরে বড় গর্ত করে অচেতন (জীবন্ত) অবস্থায় আলমগীরকে পুঁতে রাখা হয়। পরিবারের লোকজন আলমগীরের হদিস না পেয়ে কালীগঞ্জ থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন।
র্যাব-৩ এর অধিনায়ক আরও জানান, দুই মাস পরে আলমগীরের সৎ দুই ভাই খেলান উদ্দিন ও আব্দুস সাত্তারের মৃত্যু হয়। এক বছর পর সাত্তারের ভায়রা পাবনার রাশেদুল ড্রাইভার নিখোঁজ আলমগীরের পরিবারকে ফোন করেন। ফোনে আলমগীরকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানান। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাঁশঝাড় থেকে আলমগীরের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। পরে কঙ্কালের ফরেনসিক টেস্ট করানোর পর নিহত ব্যক্তি আলমগীর বলে পরিচয় মিলে। এ ঘটনায় আলমগীরের ভাই সাদ্দাম হোসেন বাদী হয়ে লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় হত্যাকাণ্ডের অন্যতম পরিকল্পনাকারী আশরাফ আলীকে।
এ ব্যাপারে লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবিবুর রহমান যায়যায়দিনকে বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। আলমগীর হত্যায় সবশেষ র্যাবের হাতে আশরাফ আলী গ্রেপ্তার হয়েছেন। এর আগে তিনজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। তারা হচ্ছেন মনারুল, সেকেন্দার আলী ও রাশেদ ড্রাইভার ওরফে আজিজ ড্রাইভার। তাদের মধ্যে রাশেদ ওরফে আজিজ ড্রাইভার আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে বিচারকের কাছে হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার অন্যতম দুই আসামি দুই সৎ ভাই খেলান উদ্দিন ও আব্দুস সাত্তারের মৃত্যু হওয়ায় স্বাভাবিক কারণেই তাদের নাম চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়ার আবেদন করা হবে।